দোঁহা

চন্দ্রাণী গোস্বামীর কবিতা

 


মহালয়া ও একটি গর্ভশোক 

মকরসংক্রান্তির রাত্রিতে শেষবার এসেছিলে।
এরপর বহুবার ডেকেছিলাম। গর্ভাশয়ে আঙুল দিয়ে
নিজেই টোকা দিয়েছিলাম। আধো অন্ধকার এসেছে।
তুমি আসোনি। তোমার পিতা আমার হাতে হাত রেখে
ত্রিভুজ রচনা করে বসেছিলেন দীর্ঘকাল।

ভোরবেলা পাখি ডাকলে, জগৎ সংসার গঙ্গাজল। পিতার কান্না
তর্পণ এ মিশেছে। আমি ইষ্ট ডেকে ডেকে অনিষ্টর দিকে 
চেয়ে থাকি ----- যা কিছু হারানোর মমতায়, অপত্যে বিচ্ছেদে
তার থেকে অশ্রুজল গুছিয়ে রাখি।

জানি, তুমি প্রেতযোনিতে যেতে গিয়ে থমকে আছো ----
আমার নক্ষত্র তুমি, আলো - অশ্রুর ব্যবধানে আমাকে মুছিয়ে
দেবে বলে এই দুয়ার পার করে চলে যেতে আজও পারো'নি।



যথা ইচ্ছা

বলেছিলে শুক্কুরবারে আসবে। তারপরেই ঘাস- শিশিরের থেকেও নিবিড় হলো তোমার তার সাথে
এ জনমের দেওয়া নেওয়া। সেইজন্যই শনিবার থেকেই বন্ধু, আমার চোখ আর করতল উতল আকাশের মতোই শূন্যময়। রবিবার তো ছুটির দিনে তোমার সাবলীল লুকোচুরি তার সাথে খিড়কি বাগানে। সোমবার আবার তোমার ইস্কুল, পথে সে নদী। যেতে আর ফিরতি পথে ডাকে ছলাৎ ছল --- নদী যেমন ডাকে। মঙ্গলে দেখি সন্ত্রাসবাদীর মতো সোম রাত্তির গোপন অভ্যুত্থান নিয়ে হামলে পড়ে তোমার বুকের হওয়ায়। বুধবার তো ---- যথা ইচ্ছা তথা যা। তাই আমিই চলে গেলাম। নিয়ে গেলাম তোমার বুকের বাঁদিকে অসম শব্দরত সঞ্চারিত সমস্ত ভয়।

এখন আমি তোমার যাওয়া আসার পথের মাঝে
তিস্তার বাঁকে বাঁকে জেগে থাকি ক্ষয়াটে চাঁদ হয়ে।

পক্ষ থেকে পক্ষান্তরে 
সবচেয়ে উপেক্ষিত অক্ষরগুচ্ছ --- 'অপেক্ষা' জেগে থাকে আমার নিঃস্বতার মাঝে;

চেয়ে চেয়ে দেখি
একনাগাড়ে তুমি কেমন সুর তোলো ঝম---ঝমাৎ

এর চেয়ে বেশী আমার কিছুই পাওয়ার কথা ছিল না...



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন