মুখ
হাওয়ায় কথা ভাসিয়ে জ্যোৎস্না আর নীল ব্রিজে
বিপন্ন দাঁড়িয়ে থাকো তুমি,
চোখে চোখ রাখতে পারি না, আমাদের আয়ু শীত জানালায়
মুখ রাখে ভাবপ্রবণ দুপুরে এমন কখনও
যাকে সম্বোধন করো অন্ধকার কুলুঙ্গির ভিতর একটুকরো
সময়ে, কাছে যেতে পারি না ঘুমভাঙানো নদীর মতো-
ভাষা পাল্টে যায় পুতুলের মতো চোখে
এত কাছাকাছি রঙের শ্লেষ বাঁচতে ব'লে যায় জাহাজের ভেতর ছুটির শহর ফুরিয়ে এলো
আর এই সামান্য মুখ ঘরের আলো সাজিয়ে প্রস্তুত।
প্রত্ন
কত দুঃখ একা গুনগুন করতে করতে
রাতের জানলায় চোখ রাখে-
কুকুরের নিঃস্ব ডাক,মাদুরের দাগ-পড়া কনুই
কে কা'র ভাষা বোঝে, শুধু আলো জ্বলে কুয়াশাঘন রাতে,
স্বর্গের মতো ভাসমান নক্ষত্রে হলুদ-ধরা পৃষ্ঠা উড়েছিল
আমার অপেক্ষা শেষ হবে আজ!
তবু মানুষেরা সরু পথ ধ'রে ক্ষীণ নদীতে হারিয়ে যায়
সব দায় মেনে, ফিরে আসে শুকনো খোল অচেনা নৌকোর
সমাধির চিঠি উড়ছে হিম বাতাসে,
এঁটোকাঁটার ধার ঘেঁষে বন্ধ হচ্ছে রাত্রির জানলা সব
আমি লিখে রাখি এই অব্দি, সোঁদা বিছানায় কত দিনের শরীর
কয়লাঘরের ধুলো, হলুদ ব্রেসিয়ার আর স্নানঘর
আমাদের সুখ শুধু মন্থর বাতাসে খিল দিয়ে যায়
পিয়ানোর ওপর অসুখে দগ্ধ কাগজ, ভালো লাগা মুখ
স্বপ্নের ভিতর ঘোড়ার পায়ের ছন্দ বাজে
মাটির অনেক গভীরে অনেক দিনরাতে।
