দোঁহা

কৌশিক সেনের গুচ্ছ কবিতা

 

 

ডুবোজাহাজের পদ্য

ডুবে দেখি শুধু, সুরাপান যত , সুবে বাংলার তখতে
কলিচুন মেশে সঞ্জাত রসে, ভিজে যায় ঋতু রক্তে।
সমূলে তুলেছি ভেমুলার পালা, ঝালাপালা রোহীতাশ্ব
সাঁতারের দাবি, বেনোজল খাবি, কবিতার মত ভাষ্য।

নেহাতই নিখাকি, ঘটি ডোবে নাকি, ঝাঁকিদর্শনে স্বস্তি
জাহাজের ডেকে রাখি রেখে ঢেকে গান্ডিব আর বিষতির।
কিস্তিতে কেনা সাগরের ফ্যানা, চেনা বামুনের পৈতে
যত ধারদেনা হয়ে গেছে চেনা, আর পারিনা যে সইতে!

বৈরীতে দেখি নৈরিতে মেঘ খইরাতে জাগে ঝঞ্ঝা
হিম শৈলতে নৈশ প্রহরী, কোরিকাঠে জাগে মন যা!
বুদ্বুদ ওঠে বেনোজোল ঘিরে, নীড়ে ফিরে অনুবন্ধে
সাঁতারের দাবি পাথারে নেমেছে, ডুবোজাহাজের ছন্দে।

 

জলাশয়

হাস আঁকা রক্তপ্রবালে। ডুবজল, ডুবজল
ব্যথা নয়, দহের আলো। বিশাখার শোলার মুকুট
এ জীবন নবকলেবর, বৃদ্ধা হন কমলেকামিনী।

অর্থ নয়। শটিবন যত। অঙ্কের কেয়াপাতা ডিঙি
রোদভেজা চুম্বকপাত। সোনার সহস্রবিধি আঁকা
হস্তরেখা ধুয়ে গেছে জলে, শলাকায় জ্যোতিষবিচার।

তবুও সতেজ ঘুম, তবুও হলুদ ঠোঁট তাপ
পুরোনো সকাল জমে সম্বিতে, কানপাশা ভুলে
হাঁসের বেদনা আঁকা উপাচার, পূজার থালায়।



পদ্মপুকুর

জল মেপে দেখা গেছে, আড়াই সের। দিব্যি ডুবে যেত সাহাদের দু’পোয়া ঘটিটা। মাঝখানে শ্যাওলাবিছানো নুড়ি। সাংকেতিক শব্দরা ইশারায় ডাকে বেরঙিন মাছেদের। ফ্লোরায় ভরে যায় তামাম রাজপাট। দুপুর গড়ালে ভিজে ওঠে পানকৌড়ি। কচুরিপানা পার করে যুবতী জলঢোরা। চুম্বনে ভরে তোলে বৈকালিক সন্ততি। বিস্ময়বোধক চিহ্নেরা বুদ্বুদ হয়ে ভেসে ওঠে ওপরে। জল মেপে কোনো আর্তনাদ শোনেনি কেউ।

ডুবুরি নামিয়ে দড়ি, কলসি আর জলপরীর নিথর দেহটা শুধু পাওয়া গিয়েছিল একবার।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন