গহনগল্প
নির্জনতার ভেতর অনন্য চিত্রণ
শিকড়ের রাজ্য, সেখানেও চোখ মেলে বসে আছে
ইশারার অজস্র ঝুরি অদ্ভুত নয়নাভিরাম
অতিক্রম-অনতিক্রম রহস্যময় সব হাত ধরাধরি
যারা দেখতে পায় মন ভরে যায়
নিস্তব্ধতার সন্তর্পণে মেঘের বর্ণালী যেন অকপট
কত গভীর সঞ্চার বুক চিরে চলে গেছে বিভাসায়
যখন মন পোড়ে বুঝি এক প্রত্নতাত্ত্বিক যেন
নীল ভেঙে ভেঙে সাম্রাজ্যের নটরাজ উন্মনা মনে
নির্মিত আলোয় পরিপূর্ণ আভূমির অপার আলো
অজানা গর্ভঘরে সুরধ্বনির টানে নিমজ্জিত এক পাখির গল্প...
নিষিদ্ধ প্রেম
মন হারানো অনালোকে জোছনা নিশিবনে জীবন লেখে
মায়াময় কিনারা দু'চোখে নিবিড় পৃথিবী হাতড়াচ্ছে
মোহ ও কল্প ব্যঞ্জনায় ভরাট প্রেমচিহ্ন হয়ে বসে বিভোর মন্তাজ
পাখিদের বিষন্নতা কাটিয়ে পিয়াসে আকুল স্বপ্ন-যোজনা
নিশুতির এই টান এই অমোঘ চাহনি যেন শূন্যে ওড়ে
প্রজাপতি পবিত্রতায় স্বাক্ষরিত নিষ্ঠায় সুলগ্ন উল্লসিত
আমাদের যে মনপাড়া আনমনে শিয়রে এসে দাঁড়ায়
আমি পুব আকাশেও দেখেছি নিরিবিলি একই অবিরত খেলা
মেঘে মেঘে মুখ চেয়ে আছে গভীরে আরও বিনত অভিমান
খেয়ালি উদাস বাউলের বাজনা অনুরাগ চোখে
যেখানে শ্বাস-পরমায়ু বাঁচে সবুজ মনের নীচে সবিনয় বোধ
এ মাঠে আমি এক রাখালের বাঁশি অশ্রুত নিঃসঙ্গ
তবু সাঁতরে বেড়ায় জীবনালোক জ্বেলে মন-নিশান
আমার ক্ষত অভিরূপ আঁকড়ে এই যে আমি একা বলে যাচ্ছি
উপমা নিষ্ঠ পাগলের আখ্যানমালা— নিয়ত ছায়ার সঙ্গে
সুনিপুণ আসঙ্গ যা কেবল একটু পরম ব্রহ্ম সাজে
রোদ্দুর বুনতে বুনতে নিষিদ্ধ প্রেম আপন করা যায়...
পদ্মনাভি
দীর্ঘশ্বাস বুকে রেখে আশায় জড়িয়েছি তামাশার রোদ্দুর
অভিমানে পুড়ে গেছি সাঁতরানো চোরাবালির আমরণ চরে
কত গভীরে পদ্মনাভি কত অতলে তোমার পরিক্রমা
মুখোমুখি হৃদয়-সন্ত্রাসে কাঁপে ছায়াশরীর
জাগায় উপেক্ষার আগ্নেয় চোখ, অন্ধপাখির হৃদয়-বোধ
উচ্চারিত কৃষ্ণমেঘ পালক ছড়িয়ে শূন্যের নীরবতা আঁকে
ছায়া আসে শোক আসে একলা পথিক একা
কোথায় সুরক্ষার বাঁধি ঘর, কোথায় মুখর জীবন
অথচ অনন্য বাগানে লুটিয়ে অগোচরে মণিপদ্ম
এ কোন প্রেমের জাত অবিরত ভাঙে পূর্ণতার নদী...
