অসংলগ্ন মোক্ষতন্ত্রের নির্লিপ্ত বাঁশি ও বিদেহ জলপ্রপাত
নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে মৃত্যুর দশম কশেরুকার ভূম , মৃত্যু তো অতি নিদ্রার অতিবিকৃত ঘুম অতি পারমানবিক দেহকোষের মৈথুন সদৃশ্য ঘুর্নাবর্তের জলপ্রপাত জিষ্ণু, অতি সাংকেতিক সূত্রগুলো পরমাত্মার ঢেউ বিকিরণ করছে মহা জ্যোতিষ্কের তামাটে হরিণীর রাজস্বলা নিয়ে , এতো বিক্ষিপ্ত শরীরের ওই অনাদি মোহন কেন্দ্রের নাভিকুণ্ড মালা ছিঁড়ে ছিঁড়ে দিচ্ছে অবিরত পুষ্পক দ্রব্যাদি, মৃত্যুর মতো দীর্ঘ অবধূতের নিরামিষ বমি প্রসব করছে কেউ, আমি তো মায়া ভক্ষণের নিৰ্মেদ পিঙ্গলা নারীটির নিষিদ্ধ স্থূল চোখের ভেতরে থাকা অতি স্থূল মাংসল দেহে পুঁতে দিচ্ছি চিরস্থায়ী চিরহরিতের ঘন অরণ্যের ধুম্রকাঠি, এখানেই আমারও সমস্ত দেহ বিবর্জিত মহাকরণের বন্ধন ক্ষেত্রের অনাদি পুরুষের মেদ ভক্ষণের থেকেও আরও বিশুদ্ধ কর্মযজ্ঞ শেষ হয়ে যাবে নিরালায় আমিও ঋত উৎপত্তির সন্ধান করছি, নিশাচর ঋষির মতোই বলাৎকারী, নিজ দেহে উঠে মৃতদেহের সংকেত নির্ণয় করব, মহাজ্ঞানীর মতোই এই রুদ্র খণ্ডকের অলৌকিক ছাই উড়ছে, দেহকে ভাঁজ করে নিষিদ্ধ মৃত্যুর মতো কিসমিস ফেলে দিচ্ছি ব্রহ্মচারীর নৈমিত্তিক কুন্ডে দীর্ঘ প্রসব করব সপ্ত শ্বাসবায়ু উদ্ভিদ হয়ে যাবে এ নম্র বন, সমগ্র পাতাল থেকে উঠে আসবে উত্থিত যৌন আকরিক, জাহান্নামে অতি তামাটে সৌরকার সুড়ঙ্গ তৈরি করছে মাগধী পুত্রদের জন্য, ছিঁড়ে খাব আমার সমগ্র অন্তঃসত্ত্বা, হে দৈবাৎ ত লালা ঢেউ, ভ চন্দ্রের বিষ, ৎ চরক, লাল নির্জন নীহারিকার মতো আমিও ভস্মীভূত লাভার অনন্য কুণ্ডে মুখ ঢুকিয়ে রাজর্ষি কেন্দ্রে নেমে যাব অতি সংকেতময় ঋষিটির গোলার্ধ ভেঙে ফেলার জন্য, এই নির্মেদ কান্ডে এসো হে সন্ন্যাসের উন্মীলন ছিন্ন পোশাক , ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাও আমার আসক্ত চিত্রের নীলাভ তামস যোনি, আমার সমগ্র পিতা আমার অন্তঃকালীন শরীরের ছায়ার সঙ্গে বেঁধে দিচ্ছে রজত সুতো, হত্যার অলৌকিক মাথাকুণ্ড ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলবে জন্মের ক্ষারকীয় ধাতু, নিঃস্ব হয়ে যাব সমগ্র শরসজ্জায়, আমার সব কাম বায়ু উড়ে যাবে দেহের লোমকূপ গলে গলে পড়বে পুঁজ হয়ে ঝরে পড়বে, আমার সমগ্র শরীরের অস্তিত্বের অস্তিত্ব , লীলাময় অনিত্যের দুধকুণ্ডের তপস্যা কেন্দ্রে নিয়ে যাও হে যম, সমগ্র উলঙ্গ নৈঋত বারান্দা থেকে ভূমিষ্ঠ হব অতি আশ্চর্য দাতব্যশালায়, আমি এখনো অশ্লীলের পারদ মাখছি আর চন্দ্রায়ন করছি নভোদ্যুতির অতীন্দ্রিয় নভোচারীর
অযৌগকুণ্ডের হোমাগ্নি হোতা ও সুক্ষ্ম তড়িতের ঈশ্বরী
কামার্ত কাঞ্চনময় জলাধারের পাশে বসে থাকি চামর আচ্ছাদিত শবাসনের মতো, এ দেহের অতি ক্ষয়রোগ আমার দীর্ঘ চিৎকার থেকে ভেসে আসা নঙর্থক মহীয়সীদের নব তর্পণ কেন্দ্র , সমগ্র সংজ্ঞাভূমি ছিঁড়ে পড়ছে , মানুষের মতো গলিত তরল জবানবন্দীর মতোই রক্তাক্ত জলপ্রবাহ গড়িয়ে পড়ছে , এ দেহ কোথায় সমর্পণ করে রেখে যাব হে ভূমি খন্ডের নৈঋত হোম ? আমার সমগ্র ভস্ম করে দাও দীর্ঘ জিহ্বা থেকে বেরিয়ে আসুক লাল রক্ত কাঞ্চনের নীল সর্পিলাকার তামাটে বিষ , জননক্ষম হয়ে পড়েছি ক্রমশ ,
ষোড়শ কান্ডের সমগ্র আয়ু্কোষোপনিষদ ছেড়ে আমি তো যুদ্ধবিহীন বুদ্ধের মতো অতৃপ্ত দেহ কাঠে নিশাচরের সঙ্গম জাল ছিঁড়ে ফেলছি, ক্রমশ নিজেই হিক্কা তুলে বের করি আমার উচিত সমগ্র, নৈঋত রেতঃ আমার কোন অস্ত্রসিদ্ধি বলে কিছু নেই তড়িৎবাহিনী কোন নির্মাণশীল জলাধারের পাশে বসে থাকি উচ্ছিষ্ট ভারাক্রান্ত সমুদ্রের স্নায়ু সমগ্ৰ নিয়ে, আমার লোমকূপ থেকে অদৃশ্য জলাধারে আমারই নিজের মুখে ছবি ভাসছে , নিজের শীতল ভৈরব মৃতদেহটাকে কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছি পর্ণমোচী উদ্ভিদের তলা দিয়ে , জড়িয়ে ধরি অজগরের মতো ক্ষুধার্ত বৈরিতাহীন পাখিটিকে, উড়তে থাকে তিন গোলার্ধ ছায়া , অদ্ভুত জিরাফের ন্যায় তীর্যক শৃঙ্গার করি , উত্তপ্ত হয়ে যেতেই সাধনা যজ্ঞের কক্ষে আমার ভান্ড ভেঙে ফেলি হঠাৎ, মহাকোষের এতো দীর্ঘ বায়ুর ব্যাপ্তি হাড়হিম বরফ গলে যায় , নির্মাণশীল জঙ্ঘা ধাতুর নিচে আমার কাপালিক আত্মার দেহকোষ , শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে ঘুরছে আমার অনাসক্ত শক্তিশালী দারিদ্রতা, এ অম্লান ঘোর ভেঙ্গে যাও , লাভার মতো চটচট করে শরীরী নির্ণেয়মান তুষের কাছে , দুই হাতে অমরাবতী চাইছি আমার বিজন বিহার সাপেদের রমনীয় তর্পণ শেষে নিরাকার পরমাত্মার দুন্দুভি বেজে উঠবে , হে প্রেত আমাকে অনিত্যের সঙ্গমশালায় নিয়ে চলো বিবর্ণ হব নির্লিপ্ততার চুম্বনকাঠি দিয়ে বাজাবো ষোড়স্তরঙ্গিনী ঈশ্বরীকে
