দোঁহা

রূপক চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

 


দহন বালিকা 

১.

ও দহন বালিকা, ইচ্ছে মাছিদের দেশে সারাদিন 

উড়তে যাও কেন?
আমাদের তো ধান খেত আছে ধানের শীষে রৌদ্র স্থাপত্য আছে

কানা ঘুঘুর ডাক আছে ইলেকট্রিক তারে

আর ট্রেন  ছেড়ে চলে গেলে

জনবিরল স্টেশন, আমলকী রঙের মন খারাপ আছে!
সেই স্টেশনেই লজেন্স বিক্রি করে

নীলাভ ব্যথার মানুষেরা রোজ ঘরে ফেরে সন্ধ্যা বেল।
তারাও তো ফিরে আসে গেরস্থালী অসুখের পাশে!
তবে, তুমি কেন সারাদিন ইচ্ছে মাছিদের দেশে উড়ে যাও! ও দেশের চিবুকে লেগে থাকে পুরুষলি আঁধার, 

সব স্ট্রিট লাইট, পুরুষ চোখে তোমাকে দেখেতোমার হেঁটে যাওয়া দেখে

তোমার পায়ের পাতার গোলাপি রঙ দেখে

তোমার চুলের খোঁপায় ঢুকে পড়ে জটিল হয়ে।
কথা দাও,  উঠোনে বিকেল এলে
তুমিও ফিরবে স্কুল বেলা পিঠে নিয়ে 
একদল কিশোরী কোলাহলে... 



২.

ও দহন বালিকা , আহত হাড়ের ভেতর বাঁশি বাজাও কেন! 
আমি তো রাগ বুঝি না,

পাথুরে কলজে কেটে আদিম অস্ত্র বানাই, 

বন্য হয়ে লুকিয়ে দেখি
সাতসতেরোর ভেতর চুল বাগিয়ে তোমার হেঁটে যাওয়া। 

কোচিং ক্লাস শেষের নক্ষত্র গুলি রাতের দিকে ফোটে
ভোর ভোর উঠে, 

শীতার্ত উনোনে ভাত চাপানো

ছেলের গা মুছে দেওয়া

বাতরুমের জলের কল বন্ধ করা

তেল হাত মুছে, দ্রুত প্রিয় মানুষটির জন্য 

টিফিন বাক্সে মেঘ রেখে একরোদ হাসি মুখে

দুয়ারে দাঁড়ানো...
সব দেখি আমি। অলক্ষ্যে অপলক হয়ে
আমি তাই কলজে কেটে আদিম অস্ত্র বানাই 

এই নির্জনতার পাতায় পা ফেলে ফেলে

ঠিক ছুড়বো হিংস্র হাওয়ায় 
তছনছ করে দেবো তোমার নির্মাণ! 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন