ফাগুনের দিনলিপি
নভের শশী-ঠাকুরানি মেঘ-বালিকের সাথে,
জোনাক-জলে সাঁতরে চলে অস্তাচলের পথে।
নিশি-ভোরের শিশির ভেজা সদ্য-কচি ঘাসে,
বাস্পে ভরা আতস কাঁচের ওড়না যেন ভাসে।
চিকন-আলো, হিজল বনে ফুলের গালিচায়,
বাসন্তিকার রেশম-সুতা উত্তরীয় গায়।
আসছে সকাল পলাশ-রঙা বহ্নিশিখা নিয়ে,
ঘুম ভাঙানি জিয়ন কাঠির পরশ খানি দিয়ে।
কোমল-কড়ি খেলায় মাতে
বসন্ত-রাগ ভাসে,
পর্ণমোচী কুরচি ফুলে কালো ভ্রমর আসে।
পাতার বাঁশি শিশুর হাসি প্রথম শেখা বুলি,
উদ্ভাসিত মায়ের মুখে গোধূলির রঙ-তুলি।
পান্থ-মিহির
আসমানী-নীল-সামিয়ানায় শেষ বিকেলের আলো,
জাফরি-জালির শৈলী আঁকে নকশা সাদা-কালো,
শ্যাম-রঙা পাড় লাল জমিনে স্বর্ণাভ কিংখাব,
দিন হারিয়ে সেহের খোঁজে উদাসি আফতাব।
আলো-ছায়ার শায়রানা তে ঘরে ফেরার গান,
রাগ-ইমনের বিলম্বনে ম্লান রেখাবের তান,
দিবস-রাতির সন্ধিক্ষণে সাঁঝের এলোচুল-
রোশন-ভরা রাত-রুহানী চাঁদ-সিতারার ফুল।
নিঝুম-নিশি মিলন শেষে চরাচরের বুকে-
সোহাগ-মাখা আলিঙ্গনে ঘুমায় পরম সুখে।
মিস্রি-মিহি কোহরা ভাসে অথৈ জোছনায়,
পান্থ-মিহির প্রহর গোনে ভোরের প্রতিক্ষায়।
