হাইডেলবার্গে একবেলা
স্টুটগার্টের শহরতলি বোবলিংগেন থেকে যেতে হবে হাইডেলবার্গ। দেখা গেল তিনবার ট্রেন পালটে তবে পৌঁছানো যাবে সেখানে। বাড়ির সামনে থেকে ট্রেনে বা বাসে বোবলিংগেন স্টেশন, সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে স্টুটগার্ট, তারপর মুলহাকার স্টেশনে আবার একটি ট্রেন বদল করে তবে হাইডেলবার্গ। শুনতে একটু জটিল লাগলেও কার্যক্ষেত্রে বোঝা গেল ব্যাপারটা বেশ নির্ঝঞ্ঝাট। জার্মানিতে এবার চার দিনের লম্বা উইক-এন্ড, কাজেই কাচ্চাবাচ্চা, পোষ্য কুকুর-বেড়াল এবং ব্যাকপ্যাক নিয়ে দলে দলে মানুষ ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পড়েছেন, ট্রেনে একেবারে থিকথিকে ভিড়। হাইডেলবার্গ স্টেশনে ট্রামে উঠে টিকিট চেকার সাহেবকে ক্যাসেল যাওয়ার পথনির্দেশ জানতে চাওয়ায় তিনি জার্মান ভাষাতেই জিজ্ঞেস করলেন আমরা হিন্দি বুঝতে পারি কিনা। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে আমাদের অবাক করে দিয়ে তিনি একটু বিদেশি টানের উচ্চারণে, কিন্তু পরিষ্কার হিন্দিতে কীভাবে সেখানে যেতে হবে সেটা আমাদের বুঝিয়ে দিলেন।
হাইডেলবার্গ শহরটির পরিচিতির মূলে আছে ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো এই হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভবত জার্মানির সর্বাধিক পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবল বোমা হামলার মধ্যেও হাইডেলবার্গ অক্ষত থেকে গিয়েছে, যার ফলে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের এক অনন্য মিশ্রণ এই শহরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লাল-বেলেপাথরে তৈরি হাইডেলবার্গ ক্যাসেলের ধ্বংসাবশেষ, নেকার নদীর ওপর একটি মধ্যযুগীয় সেতু, পুরোনো শহরের কেন্দ্রস্থলে গথিক স্থাপত্যের ‘চার্চ অফ দি হোলি স্পিরিট’, সারিবদ্ধ ক্যাফে আর দোকানে সাজানো মেন স্ট্রিট, সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে হাইডেলবার্গ এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ। হাইডেলবার্গের দুর্গের অবস্থান 'রাজার আসন' নামে একটি ছোট্ট পাহাড়ের মাথায়, যার কয়েকটা জায়গা থেকে নেকার নদীর ধারে পুরোনো হাইডেলবার্গ শহরটাকে পাখির চোখে দেখা যায়। খিলানওয়ালা লাল রঙের ব্রিজ আর ওপারের ছোট্ট সবুজ পাহাড়ের সানুদেশে ছবির মতো সুন্দর বাড়িগুলো নিয়ে নেকার নদীর তীরের দৃশ্যপটকে তো মনে হয় যেন একেবারে পিকচার পোস্টকার্ড থেকে তুলে আনা হয়েছে।
পুরোনো শহরের কেন্দ্রস্থলের পাথরে বাঁধানো অলিগলি, অজস্র পুরোনো বাড়ি, হরেক রকমের ক্যুজিনের রেস্তোরাঁ, বই আর স্যুভেনিরের দোকান, অসংখ্য বিদেশি পর্যটকের সমাগমে জমজমাট মেন স্ট্রিট, সব মিলিয়ে হাইডেলবার্গের উপভোগ্য পরিবেশ আর উৎফুল্ল মেজাজের জন্যেই সম্ভবত এই শহরকে ইউরোপের অন্যতম সেরা রোমান্টিক শহর বলা হয়ে থাকে।



