দোঁহা

নার্গিস পারভিনের কবিতা

 


প্ররোচক 

চোখের ভিতর 
আর এক জোড়া চোখ 
একটা টান 
অদৃশ্য শিরার 
দুচোখের গহ্বরে 
সেই প্ররোচনা! 
 
খোলোস ফেটে বাইরে
এলাম
একদিন আমি চৌকাঠ পেরোলাম।
বাইরের পৃথিবী হাতছানি দিল
সবুজ পাতায় হলুদ রোদ্দুরের মাখামাখি দেখলাম। 

এখন কৃষ্ণ-কালো রাত আমার দোসর
যন্ত্রণা ছুঁয়ে আমার বাঁচা
সপ্ত আকাশ থেকে রামধনু আসে গান নিয়ে মাঝে মাঝে

আর আমি প্ররোচনা লিখি রোজ।।


 বৈশাখী প্রলয়

বৈশাখী তীব্রতায় আকাশে ধুন্ধুমার 
তোমার বাড়ি উড়ন্ত চালা 
আমার ভাঙা জানালা 
পথের বাঁকে হারিয়ে গেছি 
অন্ধগলি…
কাঁচা আমে ভরেছি ছোট্ট কাঁচুলি 
তুমি তো ঠিকানাবিহীন প্রেমিক কিশোর- 
কাঁচা আম ভাগাভাগি 
নতুন জামায় আঠার দাগ 
অধরে সর্বসুখ-
হালখাতার প্রথম পরাগ! 
দক্ষিণা হাওয়ায় ঘূর্ণি দোলে 
তোমার করতলে 
আমার অবয়ব
 
বুকের মধ্যে বৈশাখী প্রলয়!!


 নক্ষত্র বাউল 

সুদূর আসমানে তুমি নক্ষত্র ভেগা

অগুন্তি তারাদের মাঝে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি নিয়ে 
তুমি ছবি আঁকছ পোস্টার কালারে। 
বিমূর্ত চিত্রকল্পে বীভৎসতা লুকিয়ে রাখছ 
নিপুন দক্ষতায়।

বিভাজনের সীমারেখা মুছে 
সবাই যখন দাঁড়াবে নোম্যাড ল্যান্ডে 
তখন ভায়োলিন হাতে তুমি ডিজিটাল বাউল 
আঙুলে ধারণ করবে সুর-মূর্ছনা
বাতাস ছুঁয়ে ছড়িয়ে পড়বে সেই সুর 
মাটির পৃথিবীর কোণে কোণে-

তুমি তখন আর ডাল ভাতের গেরস্থ নও 
তোমার চোখের মাঝে তখন সূর্য ছড়াচ্ছে এক অলৌকিক আলো
 
অতঃপর-
সমুদ্রের জল থেকে উত্থিত সূর্য ডুবে যাওয়ার মত এক সময় 
তোমার আঙুলের খেলাও বন্ধ হবে
বিস্তৃত চরাচর জুড়ে সবাই তখন ঊর্ধমুখে 
আলোর খোঁজে-

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন