দোঁহা

পিউলি মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

বিষক্ষয় 

রিয়াদ, মাল্টা নাকি সিঙ্গাপুর?
সোলো ট্রিপে মন ধারাভির বস্তিতে 
টিভি-স্ক্রিনে চোখ, ক্ষুধার্ত বাচ্চার অসহায় হাত 
যুদ্ধের আগুন নিভলে শান্তির ছাইতে খাবারের আশায়।
নড়বড়ে ভিতে কিছুতেই মুখস্থ থাকে না
ইকো-ট্যুরিজমের সুবিধা 

কম্পিটিটিভ এক্সামের বই হাতে জিকে থেকে অঙ্কে 
ঘুরছে একটা প্রজন্ম 
যার অপর শাখা স্কুলের গণ্ডি পেরানোর আগেই
পা ফেলেছে বাণিজ্যে, আবার কখনও ভিক্ষায়!
গোপন ডিপ্রেশনে যখন লেখালিখি নিম্নমানে 
উইকেন্ড-ট্যুর ক্যানসেল করে এঁকো নিজের ছবি 

সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে, বহুতলের একাকী জানলায়
ত্বকের নিচে সমুদ্র, ওপরে হিমালয় 
নীলচে ক্ষতি ও খ্যাতি পেরিয়ে, হবে কি বিষক্ষয়?

 

অভিজ্ঞতা 

সাইবেরিয়ার সাদা ছবিতে দেখেছি তার রঙিন ড্রেস 
দুই গোলার্ধে  সময়ের লুকোচুরি 
যেমন প্রেমের আনাগোনায় দিশেহারা পেঙ্গুইন 
পায়ের ছাপ ফেলে ধীরে, তেমনই হেঁটেছিল সে…

যোগাযোগের রুক্ষ বরফে সাময়িক গলন 
স্বপ্নে দীর্ঘস্থায়ী উত্তাপে অভ্যন্তরীণ বন্যা 
চিহ্ন ভাসে, কম্পাস হাসে, দেখে ভবিষ্যৎ!
বসন্তে পরিযায়ী-স্বভাব ইগলু ছেড়ে ইট-কাঠ-পাথরে অস্থির 

মানসভ্রমণ রাতদিন, অথচ দৈনন্দিন চাকায় আটকে 
উদ্দেশ্যহীন ঘুরপাক, সরণ নেই 
আরও দেখেছি
আমাকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বেরিয়ে
সে সূর্য ডুবলে পাখি, হালকা প্রেমিক 
শেষে যাযাবর হবে, না সংসারী? উত্তর অভিজ্ঞতায়…










একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন