দোঁহা

পিয়াংকীর কবিতা

  


পাহাড়ি স্বপ্নের ভিতর

ঘাটশিলা-

নরম বালিশের মতো অসুখ তুমি
তবু বারবার সেই অসুখেই মাথা রাখি
তুলোর ভিতর দিয়ে তোমার যে রাস্তা-
জীবন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি ওই মোড়ে। 

এখানে অস্ত __
পাখির ঠোঁটের ওল্টানো অবস্থান যেন! 
সানাইবাদক এসেছেন, সাথে এনেছেন যন্ত্রণা
ব্যথা গলে সূর্য হয়েছে কেশরের মতো তীব্র
প্রেমের মতো ভয়ানক ধনুকের  মতো তীক্ষ্ণ

বালিশ আর অসুখ সমানুপাতিক বলে,
ভিতরের ওজন বাড়ছে হুহু
ঘাটশিলার পাথরে পাথরে আছড়ে পড়ছে আমার মাটির পুতুল

পাহাড়ি মেয়েকে দেওয়া যায় যেসব স্বপ্ন তার ভিতর তুমি নিশ্চুপ বসে থাকো ঘাটশিলা
আমি শালিক ওড়াই। আঠালোভাতে ঢেলে দিই গরম শাকসেদ্ধ
উঁহু, জিভ পোড়ে,বুকের মতোই ধীরে ধীরে। 
তোমার গায়ে ছ্যাঁকালাগা দাগ জ্বলজ্বল করে... 

সুবর্ণের উত্তরকোণে রাখা পাহাড় জানে, 
আমি একটি নতুন মোহনা


ফুলডুংরি-

তুমি কি আমায় চিনেছ গতজন্মের মতো? 
ঘোলাটে হলুদ চোখে জাহাজ বয়ে এনেছিলাম আমি
রুক্ষ মাটির ওপর দু:খ পেতে শুয়েছিলাম বহুকাল...
মনে পড়ে?
ছাতিম গাছের নিচে যেখানে চাঁদ পৌঁছয় না
যেখানে ফুলের বাহার আত্মসাৎ করে পাথর ওড়ায় পুরুষমানুষ
সেইখানে, সেইখানে তোমার সাথে কথা হত- গত কোনো জন্মে
মনে পড়ে ফুলডুংরি?
তোমার কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে কতদিন ভোর হয়ে গেছে পাকা আনারসের মতো ভয়ঙ্কর 
তবু, শেষ বিষাদটুকু তুমি ঢক্ করে গিলে নিয়ে বলেছ,
"তোমার বুক ঘিরে দেব পাহাড়ে পাহাড়ে"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন