বেনিয়া প্রেম
বাগবাজার ঘাটে আমার গদগদ ভালোবাসা
এখন বাদাম বেচে,
যাবে নাকি একদিন দেখতে?
কৃষ্ণকলি যায়।
নিরেট অন্ধকারে কানে সজনেফুল গুঁজে।
চৈত্র ঝড়ে অবলীলায় চুল আঁচড়ায়,
একলা।
আমি বড় কাঙালের মতো কাছে গিয়ে শুধাই-
"স্বপ্ন দ্যাখো? এখনও স্বপ্ন?"
সে কোনো উত্তর দেয় না,
শুধু এক গাঢ় আঁচল
উড়িয়ে দেয় শূন্যতার দিকে।
আর তখনই,
হাওয়া বয় গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে-
ঐ দ্যাখো, কোমর জলে কেমন ডুবছে
বেখফ মানুষের যাবতীয় অলংকার!
মানুষ এমনই, সব খুইয়ে শেষে-
ঘোলা জলের কাছেই ফেরে।
আর আমি স্থির বসে আঁক কষি,
একটা স্থির বাদামওয়ালা হয়ে;
কতটুকু ভালোবাসা বেচে ফেলেছি আজ।
নিষ্কলঙ্ক আত্মহত্যার খসড়া
শোন, মেঝেতে গড়িয়ে মহাকাব্য গেলার বয়স
আমার কবেই মরেছে!
এখন আকাশের দিকে তাকালে,
মেঘের তুলোতেও বক্ষবিভাজিকা দেখি।
পাশে পড়ে থাকে কানাকড়ি রাহাখরচ,
আর কান্নার গভীরতা মাপার সেই
আদিখ্যেতা-মার্কা জটপাকানো ফিতে।
জানিস? সেদিন ফুটন্ত জলে,
ওই ছ্যাঁকা-খাওয়া, কলাই-ওঠা ডেকচির ভেতরেই
কী নিখুঁত, দাগহীন এক আত্মহত্যা সেরে ফেলল সে!
স্রেফ এক বস্তাপচা নাটক!
ঘোলাটে কাঁচের এপারে এখন থিকথিকে দুর্দিন।
ভরা হাটের ভিড়ে, কাঁপা কাঁপা আঙুল উঁচিয়ে
কোথাকার কোন দু-দিনের ঈশ্বর এঁটো আশীর্বাদ ছুড়ে মারে!
পাড়ার মোড়ের মেকি ঈশ্বর!
কী নির্লজ্জ তার করুণার নিলাম!
অথচ দ্যাখ, গোটা শ্রাবণ মাস
আমি কেমন ন্যাকা চাতক সেজে বসেছিলাম!
জলের আশায় কাঠ হয়ে-থাকা একটা নির্লজ্জ শরীর,
আর জিভের ডগায় থুতুর মতো জমে থাকা আদিম লালসা।
শেষে ওই বেঁচে থাকার নোংরা তাগিদে,
নিজেরই চেটেপুটে জমানো তৃষ্ণার জলেই-
আমার সলিলসমাধি হলো।
