চিন্তা
শূন্যের চিৎকার থেকে গড়িয়ে পড়ছে সংখ্যা।
তুমি, স্বপ্ন দেখার উপর নিষেধাজ্ঞা দাও—
আমি আরও বেশি হয়ে উঠি রোদের মোরগ,
খাঁচার ভেতর।
রোদ আঁকি। ছায়া আঁকি।
করোটির ২৯ অস্থি এখনও জীবিত।
করোটিকা গোল দেয়ালের ভেতর বুনছে সঙ্কেত।
রক্তের বিদগ্ধ ক্লাসে শিখি নথিপত্রের বয়ান,
মোরগধ্বনি— সকাল।
সময় আমাকে লেখে। আমি তাকে লিখছি মাথায়।
স্বপ্ন, একখণ্ড প্রতিরূপ ব্যক্ত করে অসীম গণিতে!
গোলকধ্বনির তলে আমি কী দেখে যাব—
থমথমে ষড়যন্ত্র, দরবেশের আদল? মঞ্চের ওপাশ আর
তোমাদের দ্বৈত অভিজ্ঞতা?
পাখি ওড়ে। কাঁটাতার তাকিয়ে রয়েছে।
হাওয়ার টেবিলে, একা
হাওয়ার টেবিল ঘিরে দৃশ্যরা খেলছে—
চোখের পেন্সিল থেকে উঁকি দিচ্ছে
কয়েকজন হলুদ— অন্তর্গত চিন্তা—
ছয়টি চড়ুই হৃদয় রোয়াকে
খুঁটে নিচ্ছে আর্শির সরিষা আর মধুপোকাদের ঘিরে
দৃশ্যময় থিয়েটারে কি করছো তুমি! হাওয়াদেহ—
নিঃশব্দ ভাষার ধ্যান আমিও জেনেছি!
দেহ-কলকব্জা ঘিরে অস্থিরতা, গোপন-গোপন—
নির্ঘুম গ্রন্থির গ্রন্থাগারে আমি কি পড়ছি অন্তর্দাহের কিতাব!
দ্যাখো, ভাষাহীনতার জবান উড়িয়ে পাতা ঝরছে অনবরত
এবং আশ্চর্য বেদনা কখনও কখনও আনন্দ নিয়ে আসে!
রাতের রাস্তায় আলো ঝুলে আছে, যেন,
নিয়ন বাদুড় পান করছে রাত্রির শ্বাস।
আমাকে দেখছে দূর-ঘেরা কয়েকটি অন্ধকার!
একা— এক ভ্রাম্যমাণ নদীতীর! হু হু হাওয়া! মরমী রাক্ষস!
বিষণ্ণ লজ্জাহীনতা আর একচিলতে মনটেবিল—
এবং বৃত্তকে ঘুরে আসতেই হয় প্রথম বিন্দুর কাছে!
হাওয়ার টেবিল ঘিরে দৃশ্যরা খেলছে—
মনপেন্সিল, তুমি কি এঁকেছো আমার কয়েকটি নগ্ন-স্কেচ!
দূরে মন, ছাই...
হৃদয় রসুইঘরে ঝাল দিচ্ছ রক্তাক্ত আমিষ!
ক্ষুদে আলজিভঘড়ি, নড়ে, নিশপিশ, নিশপিশ—
ছোবলের চোখদাঁত, মাংশের মেশিন শিহরিত।
তুমি তো সবুজ নও! শুধু, এ-মুহূর্ত মর্মরিত—
উড়ছে আয়ুর ডানা— রক্তধুম বিদগ্ধের বীজ।
ধরো, মাথাভর্তি চিন্তা— মন, খোলে অনন্ত কামিজ।
গল্প, জমা হয় আর দ্যাখো হলুদ জলের স্নান—
কে, মগজে দেহ খুলে জ্বলজ্বলে উড়ন্ত বাগান!
দুলছে কোথায় যেন নদীতীর— ঘন কাশবন!
মানুষ, নিতান্ত দুখি, না-পাওয়ার নিঃস্ব শ্বাসবন!
ভেতরে কাঁদছে কেউ! তারা ওঠে হলুদ জন্ডিস!
আলো জ্বলে! আলো নেই— কে বাজায় ব্যথার বন্দিশ!
যখন জীবন তুমি— কারা করে অন্তর্দাহ, ঘাঁই?
নিজেই অজ্ঞাতবাস— গৃহ পোড়ে, দূরে মন, ছাই...
গূঢ়চারী
লাশ পড়ে আছে কার?
কোথাও বসতি নেই, তবুও মোরগধ্বনি বাজে! একটি লেইঞ্জা, রাত্রে, বনের বিরহ ঠেলে উঠোনের চাঁদের চৌকিতে খোঁয়াড় খুলবে! কোথাও শুনছি কুয়াশা-অপেরা, শূন্যস্থান বাজাতে বাজাতে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে দূরে, শাদা বারান্দার তলে। কোথায় বারান্দা? নক্ষত্রের যাত্রীচাউনী ও জ্বলে ওঠা হাড়ের ফসফরাস? ঘূর্ণিময় বুনোঘোড়াগুলি চাঁদমারি খেলছে ব্রিজের 'পর। ব্রিজ নেই— তবুও হাজার ব্রিজ জিভ ঘসে-ঘসে সঙ্গমরত লালা ছিটিয়ে দিয়েছে। পাতা ঝরে— দেখছি রাত্রির রক্ত, ফোঁটা-ফোঁটা, ঝরে আছে আকাশের গায়ে। কিছুই পুনরাবৃত্তি নয়— তবু মনে হয়, এখানে রাত্রির তাঁত নিয়ে ফিরে আসে আর্তনাদ। বৃষ্টিবিরহী মেঘেরা ওড়ে আর কুয়াশাঝিনুক খুঁটে দিচ্ছে চাঁদের ঘামাছি। সবকিছু আপাত নিরীহ, সন্ত ও সমর্পণধর্মী— তবু লাশ পড়ে আছে কার! অতল শিশিরে ভেসে যাচ্ছে সন্তময় খুনির আঙুল, ছুরি, পলায়নরত চোখ আর নির্জনতা...
ক্রাচ
কিছু লিখছি না। চাঁদ লিখে যাচ্ছি।
চোখে অভিসন্ধির কলম—
চাঁদ হস্তমৈথুন করছে।
ঘামের ট্রেনিংটুকু মনে রেখো।
ছাইভষ্ম ওড়ে। ওড়ে, জোছনা-ফড়িংয়ের দূরবীন।
এবং বগলে ক্রাচ। দাঁড়িয়ে রয়েছি চোখে—
