দোঁহা

তাপসী লাহার কবিতা


 ঘোর কলি

সহজ চিহ্নের মতো শূন্য পায়ে উড়িয়ে নিয়ে যাও
কাপড় মোড়া আড়ালে, নিয়ত সে মহাকাল আঁধারে চোখ সাক্ষ্যে রেখে, কুৎসার মত
মন জারানো প্রজাপতি ধুমের তাবু থেকে ওড়াও পশম বীজ। জীবনব্যাপী ঘ্রাণমায়ায় ,রাখাল রাধার বিকেল টেনে বাঁশির সুরে ভালো মনের স্তবটুকু, শিশিরে আঁচিয়ে রাখা। সুডৌল সে হিল্লোল, বিউগল মূর্ছনায় কাঁপতে থাকে আশকারার অস্ফুট, পৃথিবীর প্রথম ঘুমে না ফোটা দুটো হৃদয় ঈশ্বরে থেমে গেলে সাত সাতটে চর্যায় সূক্ষ্ম আলোর ঢিল পরা নদী জলমোচনে গর্জায়। রাতের অগাধে শীত বাস্তুতন্ত্রে কুবোপাখির শরীরী উপস্থিতির মাঝে অনুসূয়া লিখে নক্ষত্র ছুটিয়ে যায় ঘোড়ার ক্ষুরে।
ডুব কোন অন্ধ জন্মের নাম,বালকবয়সে লিখেছিল শরচিহ্নে রক্তাক্ত আয়ু,কামুক জানলার খেচর গুঁজে রাখে জলের অশনাক্ত কান্না। হর্ম্য ভিক্ষায় পাথেয় সুগম হয়নি, হেমন্ত ছিঁড়ে সিঁড়ি ভেঙে কলসী নেমে আসে,আসা বিকেলের মরণ!
নু্ব্জ আলোয় ডুব দিয়ে মরে যায় কিশোরী সুখ সংশয়ে, অদুরে কিশোর সখা, চুপ করে আকাশের মত,অপেক্ষার মদে শব্দহীনের কাল, তৃষ্ণা গ্লাসে প্রথম প্রেম সংলাপ, নতজানু আবেগে সরস্বতী স্ক্রিপ্ট থমকায়, ঘোর যেরুপ কলির কোলাজে। 

 

লায়েক

 মনখারাপের কোন বিকেল হয় কি
আলো ম্লান হলে সিড়িঘাটে সাইকেল থামে।
জমাট পাথরের মনখারাপি সঙ্গে করে বুকে এনে বসে পরে সময়ের চোর
ভাঙন ধরতে চায় দুহাতের আঙুলগুলো।

 মুঠো ভেঙে কাঙাল জানায়, এত এতো শব্দ,শেষ বিকেলের আসর, বাজার, মন্দিরে, রাস্তাঘাটে শত ভয় ডিঙিয়ে আওয়াজের দৈত্যরা
 মাথা চাড়া দিয়ে উঠলেও দু একটা নিঝুম প্রখর হয়।

মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি বেয়ে মন লোফালুফি করে হালকা জোনাক ছুঁতে,
ঢেউয়ের তালে শূন্য ছুঁয়ে ফেলে যদি
যদি ঈশ্বরের চাঁদ নামাবলী, শ্মশান, মায়ের শীর্ণ হাতে ধরে দেয় চিরশিশু নিদ্রা যায় খেলনাশোক ভুলে।

আরেক সকালে স্রেফ ভালোবাসায় ডেকে দেওয়ার মত আয়োজন সাজিয়ে ফ্রেমহীন বেঁচে থাকাদের ডুবে যাওয়া, ভেসে ওঠাগুলো লায়েক করে ছেড়ে দেওয়া অবধি…

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন