দোঁহা

অমিত মজুমদারের কবিতা

 


যে নদীতে কেউ কেউ ডোবে 

যেদিকে তাকাই বায়োডাটাহীন নদী 
জোয়ারে জোয়ারে নিয়ে যায় বহুদূরে 
ঘুমে ঢোলে চোখ, কপালে লুকিয়ে সুখ 
আমরা এসেছি বাঘা বাঘা পথ ঘুরে। 

বাতাসের চাকা ঘুরে যায়। পাশাপাশি 
নিঃশ্বাসে দেখি বারুদের আনাগোনা 
পাড়ে কিছু কাঠ পুড়ে গেছে চিতা নিয়ে 
ওরা ছিলো খুব পরিচিত, জানাশোনা। 

আমাদের এই দাবা পাতা খেলাঘরে 
কখনও তুমিও ঘোড়ার পিঠেতে বসো 
আমি নৌকাতে দাঁড় টেনে টেনে ভাবি 
আড়াই প্যাঁচেতে কীভাবে গণিত কষো। 

এই নদীটার হাঁটাচলা ছিলো বাঁকা 
ছিলো না তো কোনো ঈশ্বরমুখী ক্ষত 
তবু তার জলে দুই পা ডুবিয়ে দেখি 
চরণের ধুলো ভেজেনি আগের মতো। 

ডুবে যাই আমি ডুবে যাই পুরোপুরি 
মনের ভেতরে নিজেকে ছোঁবার ছলে 
আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকা কি আর 
বখে যাওয়া এই নদীর সামনে চলে? 

তুমি ধীরে চলো। এই নদী ভরা জলে 
কেউ কেউ ডোবে ঠিক যেরকম আমি 
তোমার দু’চোখে এর উৎসটা আছে 
যেটা এই চোখে অনেকটা বেশী দামি। 
 

ডুবসাঁতার 

বাতাসে ভ্যাপসা আলো থ্যাবড়ানো গালে 
দেখে সে আলেয়া স্রোত তুমিও ঝাঁপালে! 

তোমাকে মাথাতে তুলে মাত করে বাড়ি 
চালিয়ে দিয়েছি জোরে বাঁকা তরবারি। 

না পরা পোশাক জুড়ে যে আগুন থাকে 
জড়িয়ে ধরেছে শোকে চেনা সততাকে। 

আষাঢ়ে কাহিনি লিখে বেঁচে আছে কবি 
পরাগে নিষেক দেখে দ্রুত আঁকে ছবি। 

ছবিতে সাজানো নথি, কিছু পরকীয়া 
আগামী উপোসে হবে কাছাকাছি প্রিয়া। 

যে আলো দিয়েছে ডুব তাকে ধরে ডানা 
ফিরিয়ে দেবে না আর বাকি জরিমানা। 

তুমি আছো নদী আছে জলে ভাসে তারা 
প্রাণের কারণে শোক দিয়ে গেছে সাড়া। 

আমিও তোমাকে নিতে জলেতেই যাবো
শরীরে ডুবিয়ে মাথা,  সাঁতার শেখাবো।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন