দোঁহা

চন্দ্রাণী গোস্বামীর কবিতা

 

 
ডুব 

১.

আজ সারাদিন মোষের গর্জন-
ফুঁসে ওঠার মতো কলোরল সারাদিন
কানের ভেতরে বাজছে,
তছনছ করতে করতে
মনে হচ্ছে সেই গর্জন যেন
শিকারকে মারার আগে, নিজেকে
একজোড়া চোখ করে তুলছে, আমি
শিকারীকে কাছ থেকে এত
                                 কবে যে দেখেছি
ছবির মতন, আত্মার মতন 
মনেও পড়ে না এখন-
শুধু আজ সকাল থেকে একটা আক্রোশ
এসে, একটা যন্ত্রণা এসে 
ভারী দংশন এসে কামড়ে ধরছে আমার ঘাড়
গড়িয়ে নামছে ক্রোধ
যেখানে রক্তস্রাবে
আমি কামড়ে ধরছি আমার প্রেমিকের
বাহুমূল আর 
                   আমার নিম্নাঙ্গে
আমূল গেঁথে যাচ্ছে একটা ত্রিশূল।

২.

বলি, যেসব গন্ধ না শুঁকে পাওয়া উচিত ছিল-
চলে আসি, যেখানে আমার চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার কথা ছিল-

এভাবেই গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় ভুলে গেছি চুল বেঁধে নিতে ;

বিচ্ছেদ এসেছে,
তবুও চলে যাওয়ার বিষয়টি লঘুতর করে দেখাটা অভ্যাস হয়ে গেছে;

তোমার মুখটা নিরাকার বলে ভ্রম হয়।

বিকেলের নৌকার পাটাতনে
তোমার নগ্ন বাহুর ছোপ;

মাধবীরাত অনন্তের আলো ভাঙার খেলায় বলে যায়-
আরো বহুপথ হাঁটার বাকি আলোকবর্ষ'র দিকে
যে সব গান শুনে ফেলেছি তার মধ্যে "তবু অনন্ত জাগে" এখনো উপলদ্ধি করা হয়নি
ঘুমের মধ্যে পাশ ফিরে জড়িয়ে ধরতে ভুল করেছি তোমার ঠোঁট, কচি লবঙ্গ'র ঘ্রাণ...

বলতে পারিনা যেটুকু তার ভেতর বোবা আঙ্গুল এঁকে চলে
কবেকার শুকিয়ে যাওয়া ঠাকুরদার জলসত্র
তবু শুকনো হয়ে আসা দুহাতের হিম চেটো দুটো 
জড়ো করে বলি,
                          এই পৃথিবীতে পাখি পাখি রব
               পাখিতে এতো পৃথিবী পৃথিবী শব্দ...ঠিক কোথাও
তেমনই পাখি ছন্দ নিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছো তুমি...আমার সঠিক জন্ম হবে বলে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন